স্ফটিকের বল
নাসির ও তার সুখী গ্রাম
বহুকাল আগে দক্ষিণ স্পেনের একটি ছোট্ট গ্রামে বাস করতো নাসির নামে এক রাখাল ছেলে। গ্রামের মানুষগুলো ছিল খুবই আনন্দপ্রিয়। যা ছিল তাই নিয়েই তারা সুখে জীবন কাটাতো।
নাসির প্রতিদিন তার ভেড়া আর ছাগলগুলোকে পাহাড়ের ঢালে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যেত। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দাদিমার মুখে তারাদের গল্প শুনতে তার ভীষণ ভালো লাগতো।
রহস্যময় স্ফটিক বলের সন্ধান
একদিন মাঠে বসে বাঁশি বাজানোর সময় নাসির হঠাৎ ঝোপের আড়ালে এক অদ্ভুত আলো দেখতে পেল। কাছে গিয়ে সে দেখতে পেল এক ঝকঝকে স্ফটিক বল।
স্ফটিক বলের ভেতর থেকে এমন কথা শুনে নাসির ভীষণ অবাক হয়ে গেল। কিন্তু সে কোনো ইচ্ছাই চাইলো না।
লোভের শুরু
একদিন গ্রামের এক দুষ্টু ছেলে নাসিরের কাছ থেকে স্ফটিক বলটি চুরি করে নিয়ে গেল। তারপর গ্রামবাসীদের সামনে বলটি দেখালো।
গ্রামের সবাই যখন জানতে পারলো যে বলটি ইচ্ছা পূরণ করতে পারে, তখন তারা একে একে সোনা, গহনা, বিশাল বাড়ি— নানা কিছু চাইতে শুরু করলো।
সব ইচ্ছা পূরণ হলেও সুখ মিললো না
স্ফটিক বল সবার ইচ্ছা পূরণ করলো ঠিকই, কিন্তু গ্রামের মানুষ সুখী হতে পারলো না। বরং তারা একে অপরকে হিংসা করতে শুরু করলো।
✔ যার সোনা ছিল, সে অন্যের বড় বাড়ি দেখে হিংসা করতো।
✔ যার বড় বাড়ি ছিল, সে অন্যের গহনাগাটি দেখে দুঃখ পেত।
✔ গ্রামের খেলার মাঠগুলোও বিশাল বাড়িতে ভরে গেল।
নাসিরের জ্ঞানী সিদ্ধান্ত
একদিন গ্রামের বাচ্চারা ও তাদের বাবা-মায়েরা নাসিরের কাছে এসে বললো—
তখন নাসির স্ফটিক বল হাতে নিয়ে বললো—
মুহূর্তের মধ্যে সব সোনা, গহনা আর বিশাল বাড়ি উধাও হয়ে গেল। ফিরে এলো সবুজ মাঠ আর আনন্দভরা পুরোনো গ্রাম।
আবার ফিরে এলো সুখ
গ্রামের বাচ্চারা আবার মাঠে খেলতে শুরু করলো। গ্রামের মানুষও আগের মতো আনন্দে জীবন কাটাতে লাগলো।
নাসির প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় বাঁশি বাজাতো, আর সেই সুরে পুরো গ্রামের মন ভরে উঠতো।
গল্পের শিক্ষা
লোভ মানুষকে অসুখী করে
অতিরিক্ত লোভ মানুষের সুখ কেড়ে নেয়।
যা আছে তাই নিয়ে খুশি থাকা উচিত
সত্যিকারের সুখ ধনসম্পদে নয়, শান্তি ও সন্তুষ্টির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।
উপসংহার
নাসির ও তার গ্রামের গল্প আমাদের শেখায়— সুখী হতে অনেক সম্পদের দরকার হয় না। ভালোবাসা, শান্তি আর সন্তুষ্টিই মানুষের জীবনের আসল সম্পদ।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
মে ২৭, ২০২৬
Rating:


কোন মন্তব্য নেই: