মুচি ও দুই বামনের গল্প
গরিব কিন্তু সৎ মুচি
এক দেশে ছিল এক গরিব মুচি। গরিব হলেও সে ছিল ভীষণ কর্মঠ ও সৎ মানুষ। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করেও তার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছিল না। বরং দিন দিন সে আরও গরিব হয়ে পড়ছিল।
একসময় অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গেল যে নতুন জুতো বানানোর মতো চামড়া কেনার টাকাও তার কাছে রইলো না। শেষ সম্বল হিসেবে যতটুকু চামড়া ছিল, তা দিয়ে মাত্র একজোড়া জুতো বানানো সম্ভব।
রহস্যময় জুতোর আবির্ভাব
সেদিন রাতে মুচি চামড়া কেটে সুন্দর করে টেবিলের উপর রেখে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে ঘুমিয়ে পড়লো।
পরদিন সকালে উঠে সে অবাক হয়ে দেখলো—টেবিলের উপর একজোড়া নিখুঁত তৈরি জুতো রাখা আছে!
কিছুক্ষণ পর এক ক্রেতা এসে জুতোজোড়া অনেক ভালো দামে কিনে নিলেন। সেই টাকা দিয়ে মুচি আরও চামড়া কিনে আনলো।
অলৌকিক সাহায্য
এরপর প্রতিদিন একই ঘটনা ঘটতে লাগলো। রাতে মুচি শুধু চামড়া কেটে রাখতো, আর সকালে উঠে দেখতো সব জুতো তৈরি হয়ে আছে।
ক্রমে তার ব্যবসা বাড়তে লাগলো। গরিব মুচি ধীরে ধীরে ধনী হয়ে উঠলো।
রহস্য জানার পরিকল্পনা
বড়দিনের আগের রাতে মুচি তার স্ত্রীকে বললো—
দুজন মোমবাতি জ্বেলে কাপড়ের আড়ালে লুকিয়ে রইলো।
দুই ক্ষুদে বামনের আবির্ভাব
মধ্যরাতে হঠাৎ দুজন ক্ষুদে বামন এসে হাজির হলো। তাদের গায়ে কোনো কাপড় ছিল না। ছোট্ট ছোট্ট হাত দিয়ে তারা আশ্চর্য দ্রুততায় জুতো সেলাই করতে লাগলো।
চোখের পলকে তারা জুতো তৈরি করে টেবিলে সাজিয়ে রেখে অদৃশ্য হয়ে গেল।
কৃতজ্ঞতার উপহার
পরদিন সকালে মুচিবউ বললো—
তাই মুচিবউ ছোট ছোট জামা, প্যান্ট, কোট ও মোজা তৈরি করলো। আর মুচি বানালো ছোট্ট জুতো।
বামনদের আনন্দ
সেই রাতে তারা উপহারগুলো টেবিলের উপর সাজিয়ে রাখলো। মাঝরাতে বামনরা এসে উপহারগুলো দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল।
তারা তাড়াতাড়ি নতুন পোশাক পরে নাচতে নাচতে গান ধরলো—
মুচির কাজ করবো না আর এসব কিছু ফেলে!”
তারপর নাচতে নাচতে তারা চিরদিনের মতো চলে গেল।
গল্পের শিক্ষা
পরিশ্রমের ফল একদিন অবশ্যই মেলে
মুচি কখনও নিজের কাজ ফাঁকি দেয়নি। সে সততা ও পরিশ্রম দিয়ে জীবন বদলে ফেলেছিল।
কৃতজ্ঞতা মানুষকে মহান করে
মুচি ও তার স্ত্রী সাহায্যের প্রতিদান দিতে ভুলেনি। কৃতজ্ঞ মনই প্রকৃত সম্পদ।
উপসংহার
বামনরা আর কখনও ফিরে না এলেও মুচি নিজের কাজে মনোযোগী ছিল। ফলে তার সুখ ও সমৃদ্ধি আরও বাড়তে লাগলো। বাকি জীবন তারা সুখে শান্তিতে কাটালো।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
মে ২৭, ২০২৬
Rating:


কোন মন্তব্য নেই: